নগদ টাকার চাহিদা কমাতে ‘আইআইপিএস’

নতুন পেমেন্ট সিস্টেম আনছে বাংলাদেশ ব্যাংক

দেশে নগদ টাকার চাহিদা কমানোর লক্ষ্যে ইন্টারঅপারেবল ইনস্ট্যান্ট পেমেন্ট সিস্টেম (আইআইপিএস) নিয়ে আসার চিন্তা করছে বাংলাদেশ ব্যাংক।

দেশে নগদ টাকার চাহিদা কমানোর লক্ষ্যে ইন্টারঅপারেবল ইনস্ট্যান্ট পেমেন্ট সিস্টেম (আইআইপিএস) নিয়ে আসার চিন্তা করছে বাংলাদেশ ব্যাংক। এর মাধ্যমে কেন্দ্রীভূত একটি পেমেন্ট সিস্টেমের আওতায় ব্যাংক, মোবাইলভিত্তিক আর্থিক সেবা (এমএফএস), ডিজিটাল ব্যাংকসহ সব ধরনের আর্থিক প্রতিষ্ঠানে লেনদেন করা যাবে বলে জানিয়েছেন গভর্নর ড. আহসান এইচ মনসুর।

রাজধানীর গুলশানের একটি হোটেলে গতকাল ‘স্টেকহোল্ডার ডিসকাশন অন ইন্টারঅপারেবল পেমেন্টস ইন বাংলাদেশ’ শীর্ষক এক অনুষ্ঠানে তিনি বিষয়টি জানান। বেসরকারি গবেষণা সংস্থা পলিসি রিসার্চ ইনস্টিটিউট (পিআরআই) ও গেটস ফাউন্ডেশন অনুষ্ঠানটি আয়োজন করে।

গভর্নর আহসান এইচ মনসুর বলেন, ‘নগদনির্ভর অর্থনীতি আমাদের জন্য ব্যয়বহুল। এজন্য ব্যাংক খাতকে প্রতি বছর প্রায় ২০ হাজার কোটি টাকা ও সরকারকে প্রায় দেড় লাখ কোটি (১ দশমিক ৫৩ ট্রিলিয়ন) টাকার রাজস্ব হারাতে হচ্ছে। তাই ধাপে ধাপে নগদ ব্যবহার কমিয়ে ডিজিটাল লেনদেনে যেতে হবে। এজন্য আমরা আইআইপিএস চালু করতে চাই। এর মূল উদ্দেশ্য হচ্ছে একটা ইন্টারঅপারেবল ইনস্ট্যান্ট পেমেন্ট সিস্টেম ডেভেলপ করা; যেটার মাধ্যমে যেকোনো ব্যক্তি যেকোনো স্থান থেকে যখন ইচ্ছা তখনই পেমেন্ট করতে পারবেন বা বিনিময় করতে পারবেন।’

লেনদেনের নতুন এ ধারায় দ্রুত এগোতে চান বলেও জানান গভর্নর। তিনি বলেন, ‘এরই মধ্যে বাংলাদেশে ডিজিটাল ব্যাংক চালুর প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। আইআইপিএস পদ্ধতি সফলভাবে চালু হলে দেশের প্রতিটি আর্থিক প্রতিষ্ঠান এক প্লাটফর্মে যুক্ত হবে এবং নগদহীন অর্থনীতির দিকে এগিয়ে যাবে বাংলাদেশ।’ আহসান এইচ মনসুর বলেন, ‘বর্তমানে বাংলাদেশে বিকাশ, নগদসহ বিভিন্ন মোবাইল ওয়ালেট ও ইন্টারনেট ব্যাংকিং সেবা চালু আছে। কিন্তু এগুলো এখনো ইউনিফায়েড নয়। ইউনিফায়েড সিস্টেমের মাধ্যমে ব্যক্তি থেকে ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠান থেকে প্রতিষ্ঠানে তাৎক্ষণিক অর্থ লেনদেন করা যাবে।’

অনুষ্ঠানে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন বাংলাদেশ ব্যাংকের নির্বাহী পরিচালক ও মুখপাত্র আরিফ হোসেন খান। তিনি বলেন, ‘নতুন পেমেন্ট সিস্টেম চালুর বিষয়ে গেটস ফাউন্ডেশনের সঙ্গে চুক্তি করতে যাচ্ছে বাংলাদেশ ব্যাংক। আগামী দু-এক মাসের মধ্যে চুক্তি সম্পন্ন হবে। এরপর প্লাটফর্ম তৈরি করতে প্রায় দেড় বছরের মতো সময় লেগে যেতে পারে। আশা করি ২০২৭ সালের প্রথমার্ধে আমরা এ সেবা চালু করতে পারব।’

অনুষ্ঠানে আরো বক্তব্য দেন বাংলাদেশ ব্যাংকের ডেপুটি গভর্নর জাকির হোসেন চৌধুরী, গেটস ফাউন্ডেশন ও আইএফএসের বাংলাদেশের প্রধান স্নিগ্ধা আলী প্রমুখ।

আরও